ফৌজদারী মামলায় বিকল্প রায় ( Judgment in alternative) কি?
কখন, কিভাবে আপনি এই সুবিধা পাবেন??
ফৌজদারী কার্যবিধি ১৮৯৮ এর ৩৬৭(৩) ধারায় বিকল্প রায় ( Judgment in alternative) সম্পর্কে বলা হয়েছে।
এই ধারায় বলা হয়েছে, “দণ্ডবিধির অধীন দণ্ড দেয়া হলে অপরাধটি উক্ত বিধির দুইটি ধারার মধ্যে কোন ধারার অন্তর্ভুক্ত অথবা একই ধারার দুইটি অংশের মধ্যে কোন অংশের অন্তর্ভুক্ত সে সম্পর্কে সন্দেহ থাকলে আদালত স্পষ্টরূপে উহা প্রকাশ করবেন এবং বিকল্প রায় প্রদান করবেন।“
“when the conviction is under the Penal code and it is doubtful under which of two sections, or under which of two parts of the same section, of that Code the offence falls, the Court shall distinctly express the same , and pass judgment in the alternative.”
ধারাটির প্লেইন রিডিং থেকে বুঝতে পারি, বিকল্প রায়ের বিষয়টি সাধারণভাবে রায় দেবার পদ্ধতি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি পদ্ধতি এবং এই পদ্ধতিটি ফৌজদারী কার্যবিধি অনুসারে শুধুমাত্র দণ্ডবিধির অধীনে দণ্ড দেবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
প্রশ্ন হচ্ছে বিকল্প রায় কি?
বিকল্প রায় হচ্ছে, যখন বিচারক সাক্ষ্য প্রমানের মাধ্যমে বুঝতে পারবেন , আসামী একটি অপরাধ করেছেন এটা কনফার্ম কিন্তু অপরাধটি কোন আইনের দুইটি ধারার কোন ধারার অন্তর্ভুক্ত বা একটি ধারার দুইটি অংশের কোন অংশের অধীনে সংগঠিত অপরাধ সে সম্পর্কে বিচারকের সন্দেহ থাকে, তখন বিচারক সন্দেহ করা অপরাধ দুইটির বা একই ধারার দুইটি অংশের অপরাধ দুইটির শাস্তিই আলাদা করে তার রায়ে উল্লেখ করবেন এবং আসামীকে পছন্দ করতে দিবেন , আসামী কোন শাস্তি গ্রহণ করবেন।
একটা উদাহরণ দেই।
ধরি ,’ক” আইনের দুইটি ধারা হচ্ছে ‘X’ এবং ‘Y’। ‘X’ ধারার অপরাধের শাস্তি হচ্ছে ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড। একইভাবে ‘Y’ ধারার অপরাধের শাস্তি হচ্ছে ১ বছরের কারাদণ্ড এবং ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড। বিচারক যদি সাক্ষ্য প্রমান শেষে রায় প্রদানের সময় দেখেন যে, কোন আসামী ‘ক’ আইনের অধীনে একটি অপরাধ করেছে এটা কনফার্ম, কিন্তু অপরাধটি ‘X’ ধারার বর্ণিত অপরাধ নাকি ‘Y’ ধারার বর্ণিত অপরাধ এটা সাক্ষ্য প্রমানে স্পষ্ট না , তখন বিচারক দুইটি ধারার শাস্তিই তার রায়ে উল্লেখ করে আসামীকে তার নিজের শাস্তি হিসেবে কোনটি পছন্দ , সেটা পছন্দ করবার সুযোগ দিবেন। তখন আসামী তার পছন্দমত শাস্তি , তার নিজের শাস্তি হিসেবে গ্রহণ করবেন। যদি আসামী বড়লোক আসামী হয়, সে চিন্তা করবে, টাকা দিতে সে রাজি, কিন্তু এতদিন জেল খাটবে না, তখন আসামী নিশ্চয়ই ‘Y’ ধারার শাস্তিকে শাস্তি হিসেবে গ্রহণ করবে কারন এখানে তাকে ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড দিতে হচ্ছে এটা সত্য কিন্তু জেল খাটতে হচ্ছে মাত্র ১ বছর। অন্যদিকে যে আসামী গরীব সে আসামী পছন্দ করতে পারে, ‘X’ ধারায় প্রদত্ত শাস্তিকে, কারন এখানে তাকে ৫ বছর জেল খাটতে হচ্ছে এটা সত্য কিন্তু অর্থদণ্ড মাত্র ১০ হাজার টাকা। এভাবে বিচারক দুইটি ধারার শাস্তি বা একই ধারার দুইটি অংশের শাস্তি উল্লেখ করে আসামীকে তার নিজের শাস্তি পছন্দ করবার যে সুযোগ দেন, সেটাই বিকল্প রায় প্রদানের পদ্ধতি।
এই বিকল্প রায় ফৌজদারী কার্যবিধি অনুসারে কেবল দণ্ডবিধির অপরাধের ক্ষেত্রেই দেবার সুযোগ আছে। বিচারক যদি মনে করেন, আসামী একটা অপরাধ করেছে এটা কনফার্ম কিন্তু সেটা দণ্ডবিধির ৩২৩ ধারা নাকি ৩৫২ ধারার অপরাধ সেটা নিয়ে সন্দেহ আছে, আবার কোন অপরাধ দণ্ডবিধির ৫০৬ এর পার্ট ১ নাকি ৫০৬ এর পার্ট ২ এর অপরাধ সেটা নিয়ে সন্দেহ আছে, অর্থাৎ সাক্ষ্য প্রমান পুরোপুরি স্পষ্ট না, সেক্ষেত্রে বিচারক দুইটি ধারার শাস্তিই তার রায়ে উল্লেখ করবেন এবং আসামীকে শাস্তি পছন্দ করবার সুযোগ দিবেন। এভাবে বিকল্প রায় প্রদান করার সুযোগ ফৌজদারী কার্যবিধি , ১৮৯৮ এর ৩৬৭(৩) ধারা প্রদান করেছে। যদিও বাস্তবে এই বিকল্প রায়ের পদ্ধতি প্রয়োগ হয় না, তবুও যদি কখন প্রয়োজন হয়, তখন যাতে বিচারক এভাবে বিকল্প রায় প্রদান করতে পারেন, সেই সুযোগটি ফৌজদারী কার্যবিধি ৩৬৭(৩) ধারায় রেখেছে।
পোস্টটি কতটুকু সহায়ক হল, কমেন্ট বক্সে জানাতে ভুলবেন না।
No comments:
Post a Comment